কর্মজীবী মা-বাবা: শিশুর রোজকার দিনে নিজের কণ্ঠ রাখার ৭টি উপায়
কোনো কোনো দিন আপনি বেরিয়ে যান শিশু ঘুম থেকে ওঠার আগেই, আর ফেরেন ঠিক স্নানের সময়। শিফটের কাজ, ঢাকা বা কলকাতার জ্যামে দুই ঘণ্টার যাতায়াত, কিংবা দুবাই, সৌদি আরব বা মালয়েশিয়ায় কাজ, অনেক পরিবারের কাছে এটাই বাস্তব। মনে হয়, ছোট ছোট মুহূর্তগুলো হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে: প্রথমবার "গাড়ি" বলা, রান্নাঘরে মজার নাচ, দুপুরের খাওয়ার পর আদর।
আপনি সব জায়গায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু আপনার কণ্ঠ ভাবার চেয়েও দূরে পৌঁছতে পারে। ব্যস্ততম সপ্তাহেও শিশুর দিনে আপনার কণ্ঠ রাখার সাতটি সহজ উপায় রইল।
১. একটা "কণ্ঠের অভ্যাস" রাখুন, যা কখনো বাদ যায় না
একটা মুহূর্ত বেছে নিন যা সবসময় আপনার: সকালের "টা-টা", সন্ধ্যার "এসে গেছি!", বা রাতের শেষ গান। আর সেটা রোজ একই রাখুন। একই কথা, একই সুর, একই জড়িয়ে ধরা। দিনটা যখন অনিশ্চিত, তখন আপনার সঙ্গে একটা নিশ্চিত অভ্যাস ছোট্ট শিশুর কাছে অনেকখানি।
২. বাড়ির মানুষের কাছে একটা ভয়েস মেসেজ পাঠান
দিনের বেলা দিদা, ঠাকুমা, নানি, আয়া বা আপনার জীবনসঙ্গী যদি শিশুর সঙ্গে থাকেন, দুপুরে ২০ সেকেন্ডের একটা ভয়েস নোট পাঠান: "হ্যালো, আমার সোনা! ভাত খেয়েছ? বাবা তোমায় খুব ভালোবাসে।" যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি রোজ একই সময়ে সেটা শোনাতে পারেন। ছোট, উষ্ণ আর হাসিখুশি রাখুন। ছোট শিশুর লম্বা মেসেজ লাগে না।
প্রবাসে থাকা বাবা বা মায়ের জন্য এটা আরও কাজের: সময়ের পার্থক্য থাকলেও একটা রেকর্ড করা "শুভ সকাল" ঠিক সকালেই বাজতে পারে। রিয়াদে যখন শেষ রাত, ঢাকায় তখন ভোর; এমন সময়ে লাইভ কল সবসময় সম্ভব হয় না, কিন্তু আগের রাতে রেকর্ড করা আপনার গলা শিশুর ঘুম ভাঙার সময়েই অপেক্ষা করে থাকতে পারে। ঈদ, পুজো বা জন্মদিনে বাড়ি ফিরতে না পারলে একটা ছোট্ট গান বা "শুভ জন্মদিন, সোনা" রেকর্ড করে পাঠান, যাতে বাড়ির মানুষ ঠিক সময়ে সেটা শোনাতে পারেন।
৩. রোজকার কথাগুলো রেকর্ড করে রাখুন
শিশু দিনে বহুবার একই কথা শোনে: "বাহ্, দারুণ!", "চলো হাত ধুই", "খাওয়ার সময় হয়ে গেছে", "বলটা কোথায়?"। এর কয়েকটা আপনার গলায় রেকর্ড করা থাকলে দেখাশোনার মানুষের হাতে সারাদিনের একটা সহায় থাকে। Chunnu Ji-তে মা বা বাবা প্যারেন্ট গেটের পেছনে প্যারেন্ট এরিয়ায় কয়েকটা ছোট লাইন রেকর্ড করেন। তারপর অ্যাপের খেলাগুলো সেই কণ্ঠে কথা বলে, ছোট খেলায় প্রশংসা থেকে শুরু করে ছোট্ট বার্তা পর্যন্ত। নতুন লাইন তৈরি হয় সমর্থিত ফোনে; অন্য ফোনে আপনার রেকর্ড করা লাইনগুলোই বাজে।
৪. রোজকার কাজগুলোকে খেলা বানান, আপনার কণ্ঠে
দাঁত মাজা, খাওয়া আর ঘুমের জন্য তৈরি হওয়া, এই সময়েই শিশুরা সবচেয়ে বেশি আপত্তি করে। একটা চেনা কণ্ঠ এগুলোকে লড়াইয়ের বদলে খেলার মতো করে তুলতে পারে। দাঁত মাজার একটা গান গেয়ে ফেলুন, প্রতি গ্রাসে "এক, দুই, তিন" গুনুন, অথবা ছুটির দিনে একসঙ্গে রোজকার কাজ খেলাটা খেলুন, যাতে সপ্তাহের মাঝে দেখাশোনার মানুষ যখন সেটা চালান, শিশুর কাছে চেনা লাগে।
৫. খেলুন "কে কথা বলছে?"
ছোট শিশুরা আন্দাজের খেলা খুব ভালোবাসে। কয়েকটা রেকর্ড করা কণ্ঠ বাজান, আপনার, দিদার, বড় দাদা বা দিদির, আর জিজ্ঞেস করুন, "এটা কে?"। মজার, ছোট্ট, আর পরিবারের সবাইকে শিশুর জগতে রাখে। Chunnu Ji-র কে কথা বলছে? খেলাটা এই ভাবনা থেকেই তৈরি।
৬. ছুটির দিনটা কাজে লাগান, চাপ ছাড়াই
নিখুঁত ছুটির পরিকল্পনা লাগবে না। মেঝেতে বসে দশ মিনিট ব্লক নিয়ে খেলা, হাঁটতে বেরিয়ে যা দেখছেন তার নাম বলা ("বাস! কুকুর! গাছ!"), কিংবা একসঙ্গে একটা গান, এটাই মূল্যবান সময়। ওই দশ মিনিট নিজের ফোনটা সরিয়ে রাখুন। তারপর পরের সপ্তাহের জন্য একটা নতুন লাইন রেকর্ড করুন। এক মিনিট লাগে।
৭. নিজের ওপর একটু সদয় হোন
কর্মজীবী মা-বাবারা অনেক অপরাধবোধ বয়ে বেড়ান। শিশুর আপনাকে প্রতি মিনিটে দরকার নেই; দরকার আপনার সঙ্গে জুড়ে থাকার অনুভূতি। আপনার কণ্ঠ, আপনার মুখ, আপনার মনোযোগের ছোট, নিয়মিত মুহূর্তগুলোই সেই বাঁধন গড়ে। কোনো যন্ত্র দিনের মধ্যে আপনার কণ্ঠ বয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আপনার জায়গা নেয় না, আর নেওয়ার দরকারও নেই। দরজায় দাঁড়ালে শিশু তো আপনার দিকেই ছুটে আসে।
সম্মতি আর গোপনীয়তা নিয়ে একটা কথা
শুধু নিজের কণ্ঠ, অথবা পরিবারের কারও কণ্ঠ তাঁর অনুমতি নিয়ে রেকর্ড করুন। Chunnu Ji-তে কণ্ঠ ফোনেই থাকে, আপলোড হয় না, আর অ্যাপে কোনো বিজ্ঞাপন নেই। সেটআপের পর এটি অফলাইনে চলে।
খেলার মধ্যে আপনার কণ্ঠ
আপনি কাজে থাকলেও খেলার সময় শিশু আপনার গলা শুনুক, এমন চাইলে Google Play থেকে Chunnu Ji নিন। শুরু করা বিনামূল্যে, আর এটি ১–৪ বছরের শিশুর জন্য, মা-বাবার সঙ্গে একসঙ্গে উপভোগ করার মতো করে তৈরি।
কণ্ঠ নিয়ে একটি কথা: বাংলায় পরিবারের কণ্ঠে নতুন লাইন তৈরি করতে সমর্থিত ফোন লাগে (64-bit Android, অন্তত 5.5 GB RAM এবং 2.2 GB খালি জায়গা)। অন্য ফোনে অ্যাপটি আপনার রেকর্ড করা লাইনগুলোই বাজায়। তৈরি করা কণ্ঠ হুবহু আপনার মতো না-ও শোনাতে পারে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কর্মজীবী মা-বাবা কীভাবে ছোট শিশুর সঙ্গে জুড়ে থাকবেন?
একটা রোজকার অভ্যাস রাখুন যা সবসময় আপনার, দেখাশোনার মানুষকে ছোট ভয়েস নোট পাঠান, আর রোজ বা অন্তত ছুটির দিনে কয়েক মিনিট ফোন ছাড়া সত্যিকারের খেলা খেলুন।
ছোট শিশু কি মা-বাবার গলা চেনে?
জন্ম থেকেই শিশুর চারপাশে পরিবারের কণ্ঠ থাকে, আর চেনা গলা তার রোজকার জগতের অংশ। মেসেজ ছোট আর উষ্ণ রাখুন, একই কথাগুলো বারবার বলুন।
বাচ্চার জন্য ভয়েস মেসেজে কী বলব?
শিশুর নাম, একটা ছোট প্রশ্ন বা প্রশংসা, আর আদরের বিদায়। যেমন: "হ্যালো তিতলি! টেডির সঙ্গে খেলছ? মা তোমায় খুব ভালোবাসে। টা-টা!" কুড়ি সেকেন্ডই যথেষ্ট।
আয়া বা দিদা কি আমার রেকর্ড করা কণ্ঠ শিশুকে শোনাতে পারেন?
হ্যাঁ, রেকর্ডিংয়ের এটাই সবচেয়ে কাজের ব্যবহারগুলোর একটা। কোন কাজের সময় কোন রেকর্ডিং, যেমন খাওয়া, দাঁত মাজা আর ঘুম, তাঁদের দেখিয়ে দিন।
Chunnu Ji কি আমার কণ্ঠ আপলোড করে?
না। Chunnu Ji-তে রেকর্ডিং ফোনেই থাকে, অ্যাপ সেগুলো আপলোড করে না।
